বেকারত্ব কমাতে মহাপরিকল্পনা; ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

Share

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বন্ধ ও অর্ধচলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। গত ৪ জুন জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তিন বছর মেয়াদি ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠনের কথা জানানো হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত হবে। কর্মসূচির আওতায় কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এবারের বাজেটকে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। তাদের মতে, প্রণোদনার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর — প্রকৃত উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অর্থায়ন পায় এবং ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।