ছয় বছর আগে তুরস্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত সাভাসগলু বাংলাদেশকে ‘দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান তারকা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতিকে কাঠামোগত রূপ দিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সফর শেষে দুই দেশের সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঘোষণা এলো।
ঘোষিত কাঠামো তিনটি হলো — দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে বার্ষিক ‘২+২ বৈঠক’, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করা এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পরামর্শক কমিটি গঠন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি কাঠামো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আর কেবল বাণিজ্য বা উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না আঙ্কারা। ‘২+২ বৈঠক’ সাধারণত কেবল সেই দেশগুলোর সঙ্গে চালু করা হয়, যাদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও ভারতের পর তালিকায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এই সম্পর্কের নতুন মাত্রাকেই স্পষ্ট করে।
২০১৯ সালে ঘোষিত তুরস্কের ‘এশিয়া এনিউ’ পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা। এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে এখন আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমান ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে আঙ্কারা। হাকান ফিদান ঢাকায় বলে গেছেন, বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ পদক্ষেপ নিতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিআইপিএসএসের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে কৌশলগত মাত্রায় উন্নীত করতে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তা অংশীদারত্বে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা যে আরও গভীর হবে, তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।