চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৭ জন। ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গুর ভয় — পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে আক্রান্ত ২৯ হাজার, মৃত ২২৬

Share

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগে সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্থায়ী জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ১৭৪ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২২৬ জন। সামনে বর্ষাকাল আসায় এবারও উদ্বেগ বাড়ছে।

বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে ২৭১ জন আক্রান্ত ও পাঁচ জন মৃত্যুর পর ২০২২ সালে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪৪৫ জনে, মৃত্যু ৪১ জন। ২০২৩ সালে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় — ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত ও ১০৭ জনের মৃত্যু হয়। পরের বছর আক্রান্ত কিছুটা কমে চার হাজার ৩২৩ জনে নামলেও মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৫ সালে চার হাজার ৮৬৪ জন আক্রান্ত হয়ে ২৫ জন মারা যান। চলতি বছরের ৮ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৭ জন, মৃত্যু একজনের।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বর্ষাকালে প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, এডিস মশা এয়ার কন্ডিশনারের ট্রে, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসাসহ জমে থাকা যেকোনো স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে জানান তিনি।

তবে নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কর্মীদের নিয়মিত দেখা যায় না। চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, গত ডিসেম্বর থেকে আমেরিকান প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব লার্ভিসাইড বিটিআই ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং এতে আক্রান্তের হার কমেছে। চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রেম্যান নিয়মিত কাজ করছেন এবং গুদামে ছয় মাসের ওষুধ মজুত আছে। নভেম্বর নাগাদ মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।