প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন ধাপে উন্নীত করার ঘোষণা এসেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের জনগণের ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গড়ার লক্ষ্যে অংশীদারত্ব জোরদারের পাশাপাশি চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বেইজিং। সফর শেষে ১৪ দফার যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, বিশ্বে যেকোনো পরিবর্তনই আসুক না কেন, চীন বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত ভালো বন্ধু’, ‘সুপ্রতিবেশী’ ও ‘ভালো অংশীদার’ হিসেবেই থাকবে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বেইজিং প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর তৈরির, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো ও বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা জোরদার করা। চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।
১৪ দফা যৌথ ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ প্রতিষ্ঠা, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ২+২ সংলাপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সহায়তা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ শূন্য শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখা। চীন ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগ দেওয়ার আবেদনেও সমর্থন দিয়েছে।
বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।