চট্টগ্রাম নগরে এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নগরের প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে প্রায় একটিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি ঝুঁকি সূচকেই চট্টগ্রাম উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ৮ থেকে ২০ জুন নগরের ৩৭০টি বাড়িতে জরিপ চালায়। এতে ৯৯টি বাড়িতে এবং পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়। জরিপে কনটেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, হাউস ইনডেক্স ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ব্রুটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।
জরিপে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, এসির ট্রে, ফ্রিজের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবনের ফ্লোর ও অন্যান্য স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। শনাক্ত লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ছিল ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস অ্যালবোপিকটাস।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৮০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জুন মাসেই শনাক্ত হয়েছেন ১০৪ জন। আক্রান্তদের বড় অংশ নগর ও আশপাশের এলাকা থেকে।
জরিপের ভিত্তিতে উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লাকে ‘রেড জোন’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, জরিপের সুপারিশ সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চিহ্নিত ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ নজরদারি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং আক্রান্ত এলাকার আশপাশে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।