সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই থেকে ৩৬ দিনের ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির

Share

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩৬ দিনের ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বিপ্লবের মাস জুলাই’ উপলক্ষে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের প্রতিটি দিন গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল এবং তা নতুন প্রজন্মের সামনে পুনরায় তুলে ধরাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রতিটি দিনকে আলাদাভাবে পুনর্মঞ্চায়ন ও স্মরণ করার উদ্দেশ্যেই প্রতিটি দিনের জন্য পৃথক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসনাত জানান, কর্মসূচির সূচনা হবে ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে, যেদিনই ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রাভিত্তিক ‘জুলাই থেকে জনপদ’ কর্মসূচির উদ্বোধনও হবে। ২ থেকে ৮ জুলাই দেশজুড়ে গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে কর্মসূচি চলবে, আর ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’।

এরপর ১০ জুলাই লেখক-বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলোচনা সভা, ১৪ জুলাই নারী সমাবেশ এবং ১৫ জুলাই কৃষকবিষয়ক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের পাশাপাশি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করা হবে। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে’, ১৯ জুলাই উত্তরার ঘটনাবলি স্মরণে অনুষ্ঠান এবং ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কর্মসূচি পালিত হবে।

পরের দিনগুলোতে চিকিৎসক, আহত ব্যক্তি, যুবসমাজ, শ্রমিক, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা, সমাবেশ, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ ও ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’ কর্মসূচি, যেখানে আন্দোলনের সময় ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের সম্মাননা জানানো হবে।

মাসব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে ২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের গৃহযাত্রা’, ‘গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ’ ও ‘জুলাই স্মরণী প্রকাশ’ কর্মসূচি, ৩ আগস্ট ‘জনতার এক দফা’, ৪ আগস্ট শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। পুরো মাসজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ‘প্রবাসে জুলাই’ শীর্ষক একটি কর্মসূচিও চলবে বলে জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি আরও জানান, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ কাজ করবে, যার আহ্বায়ক হিসেবে তিনি নিজে এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। বিভিন্ন উইং ও পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি প্রতিটি কর্মসূচির স্থান ও সময় পরবর্তীতে জানিয়ে দেবে।