ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে দেওয়া এই রায়ের ফলে তাঁর নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। শুনানিতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। রাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আর ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম।
এর আগে গত ২০ জুন একই আসনের প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে আদালত বন্ধু বা অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দিতে এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী নামের দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনীত করেছিল আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে গত ৯ জুন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের করা আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সেই আপিল খারিজ করে দিলে প্রার্থিতা বহাল থাকে আসলাম চৌধুরীর। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা পৃথক রিট আবেদনও ২৭ জানুয়ারি খারিজ হয়ে যায়, ফলে নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত ছিল। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী, যা গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়েছিল, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে সফল হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। এরপর ৩১ মার্চ জামায়াত প্রার্থী পৃথক আপিল আবেদন করলে ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত তা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান, যার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের রায় এল।