সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, পরে কমিটি বিলুপ্ত

Share

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার সংঘর্ষে গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে। মামলা দায়েরের একদিন পরই সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর (২৮) ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ছিলেন এবং উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা। শুক্রবার রাত আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির তথ্য জানান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল।

ঘটনার বিবরণ

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২০)।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় সজীব মাতুব্বরকে। পুলিশ এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামি সজীব এখনো পলাতক রয়েছেন।

সাংসদের হস্তক্ষেপ ও কমিটি বিলুপ্তি

শুক্রবার বিকেলে নিহত সুমনের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ও কবর জিয়ারত করতে যান ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম (বাবুল)। সেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তার এই বক্তব্যের তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, কমিটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল, এবং দলের এক নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সজীব মাতুব্বরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।