ছবি : সংগৃহীত

এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউরের সম্পদের মামলা: অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২১ জুলাই

Share

আলোচিত ‘ছাগল-কাণ্ডে’ নাম জড়ানো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত জানাবে আগামী ২১ জুলাই। রোববার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবির এই দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম।

কারাবন্দী মতিউরকে এদিন প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে তোলা হয়। তাঁর পক্ষের দুই আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বোরহান উদ্দিন আদালতে দাবি করেন, তাঁদের মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁর আয়কর সংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিয়মমাফিক। তাঁরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি মহল মতিউরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেই তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। তবে দুদকের আইনজীবী এই দাবির বিরোধিতা করে আদালতকে জানান, আসামির অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তদন্তে উঠে এসেছে, তাই আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

শুনানির শেষ দিকে বিচারকের অনুমতি নিয়ে নিজেই কথা বলেন মতিউর। কাঠগড়া থেকে তিনি দাবি করেন, একটি চক্র তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এবং তিনি কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মে জড়িত নন।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, যখন মতিউর ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে পৃথকভাবে দুটি মামলা রুজু হয়—অভিযোগ ছিল অবৈধ উপায়ে সম্পদ গড়া এবং তা লুকানোর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তদন্ত শেষে দুদক মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে, যেখানে বলা হয়, সম্পদবিবরণীতে ভুল তথ্য দিয়ে তিনি সোয়া কোটি টাকার বেশি সম্পদের হিসাব আড়াল করেছেন। এ ছাড়া পদের অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে, যা তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীর গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে কারাগারেই দিন কাটছে মতিউরের। এর কিছুদিন আগে, ২০২৩ সালের কোরবানির ঈদের সময় তাঁর ছেলের ১৫ লাখ টাকা দামের একটি ছাগল কেনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে, যা থেকেই তাঁর পরিবার নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মতিউরের প্রথম সংসারের দুই সন্তান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, যাঁদের একজন কানাডাপ্রবাসী। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীও, যাঁর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে দুদক মামলা করেছে, দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আলোচিত ছাগল কেনার ঘটনায় জড়িত ছেলেটি এই দ্বিতীয় স্ত্রীরই সন্তান।