ছবি : সংগৃহীত

আদাবরে বিএনপি নেতা খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

Share

রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি পারভেজকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রোববার ভোর পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব-২। বাহিনীটির দাবি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাশারকে কুপিয়ে জখম করেছিলেন পারভেজ, যাঁদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান বাশার।

র‍্যাবের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৯ জুন বিশ্বকাপ ফুটবলে জাপান-ব্রাজিল ম্যাচ দেখা নিয়ে নবোদয় হাউজিং এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে এলাকার মজনু ও শহীদ গ্রুপের বিরোধ বাধে। এ নিয়ে ১ জুলাই সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সালিস বসলেও তাতে মীমাংসা না হওয়ায় শেষমেশ সংঘর্ষে রূপ নেয় বিরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আবুল বাশারও হামলার শিকার হন—পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ও সাদ্দাম হোসেনকে একের পর এক আঘাত করেন বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাশারকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

র‍্যাব আরও জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে ৩ জুলাই জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে সুমন (২৫) ও শহীদকে (৫৯) গ্রেপ্তার করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাঁরা স্বীকার করেন, পারভেজই ছুরিকাঘাতে বাশারকে হত্যা করেছেন—একই দাবি করেন আহত সাদ্দাম হোসেনও।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পারভেজের নামে মোহাম্মদপুর থানায় অবৈধ জমায়েত, মারধর, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পূর্বেই মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এ ছাড়া এই হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সাহেবনগর এলাকা থেকে আসামি নিরব, রিপন, মজনু মিয়া ও মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে, আর ডিএমপি ২ ও ৩ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে শোয়েব, আরমান ও নয়নকে। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।