ছবি : সংগৃহীত

পারিবারিক কলহের জেরে শ্রীপুরে সন্তানদের বিষপানের পর মায়েরও আত্মহত্যা চেষ্টা

Share

কর্মস্থল থেকে ফিরে বাসার মেঝেতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ছটফট করতে দেখেন মোবারক হোসেন। তাঁদের শরীরে কীটনাশকের তীব্র গন্ধ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁদের। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের ভাষ্যে, পারিবারিক অশান্তির জের ধরে দুই শিশুসন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষপান করে আত্মহননের চেষ্টা করেন মা।

অসুস্থ তিনজন হলেন নেত্রকোনা জেলা সদরের মোবারক হোসেনের স্ত্রী মণি আক্তার (৩০), ছেলে মো. আরাফাত (৪) ও মেয়ে মাইশা (২)। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নেওয়া হয় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুর অবস্থার অবনতি দেখে তাদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন, আর সে অনুযায়ী তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। মা মণি আক্তার বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন আছেন।

শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মোবারক হোসেন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন স্ত্রী ও দুই সন্তান মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছেন, ঘর ও তাঁদের শরীর থেকে আসছে কীটনাশকের তীব্র গন্ধ, আর শিশুদের মুখ দিয়ে বের হচ্ছে ফেনা। এ অবস্থায় তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাড়িওয়ালা বিউটি আক্তার জানান, প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ ওঠেন মোবারক। তাঁর ভাষ্যে, দম্পতির মধ্যে বিরোধ ছিল, তবে ঠিক কী নিয়ে এই বিরোধ, তা তাঁর জানা নেই।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বলরাম দাস জানান, গুরুতর অবস্থায় মা ও দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, শিশুদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আর মায়ের চিকিৎসা চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ জানায়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।