ছবি : সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর ফেলে গেল হামলাকারীরা

Share

চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক জাহিন শেখকে (৩৮) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তাঁর বাঁ হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদরের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এ হামলার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি নাজমুল আরেফিন কিরণ ও তাঁর অনুসারীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা গত রাতে মুঠোফোনে ডেকে জাহিনকে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে হামলাকারীরা, যার একপর্যায়ে তাঁর বাঁ হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা জাহিনের চিকিৎসা করেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকিব। তিনি জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই যথেষ্ট রক্তক্ষরণ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন থাকার পাশাপাশি বাঁ পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ পুলিশ লাইনস এলাকার বাসিন্দা রজব আলীর ছেলে জাহিন।

ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থায় জাহিনের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে সজ্ঞান অবস্থায় তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর কিছু হয়ে গেলে এর দায় থাকবে কিরণ ও তাঁর সহযোগীদের ওপর। বক্তব্যে তিনি জানান, আকস্মিকভাবে তাঁর গলা ও পেটে কোপ মারা হয়, এক পর্যায়ে হাত কেটে ফেলে দিয়ে তাঁকে মৃত ভেবে যাচাই করে হামলাকারীরা, এরপর পায়ের শিরাও কেটে দেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে কোপানো হয়েছে বলে ভিডিওতে জানান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, আজ রোববার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত জাহিন শেখ তাঁর ভিডিও বক্তব্যে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্তকাজ শুরু করেছে।