ছবি : সংগৃহীত

রাঙ্গামাটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার চাওয়ায় দুর্গতদের অপমানের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

Share

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতরা অভুক্ত শিশুদের জন্য খাবার চাইতে গিয়ে অপমানের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিশুখাদ্য ও বড়দের জন্য খাবারের প্যাকেট চাইলে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রিয়াদ হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে বলেন। সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তার এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

গত রোববার রাতে ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য শিশুখাদ্য এবং বড়দের জন্য খাবারের প্যাকেট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীসহ কয়েকজন দুর্গতের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৫০ বছর বয়সী ওই নারী জানান, অভুক্ত শিশুদের জন্য খাবার চাইতে গিয়েই তিনি অপমানের শিকার হন।

দুর্গতদের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণ ও শিশুখাদ্যের বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন পিআইও রিয়াদ হোসেন, উল্টো খাবার চাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। শুধু তা-ই নয়, শিশুখাদ্য ও খাবার চাওয়ার জেরে ওই নারীসহ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সবাইকে দ্রুত কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের। দুর্যোগের এই সংকটময় সময়ে আশ্রয় হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী তিনি খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত মানুষ থাকায় সবাইকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি খারাপ আচরণ করেননি, বরং নির্ধারিত তালিকার বাইরে খাবার বিতরণ করা সম্ভব নয়—এই বিষয়টিই তিনি তাঁদের বুঝিয়ে বলেছিলেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মত, দুর্যোগের সময় দুর্গত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব। এমন অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু অমানবিকই নয়, বরং সরকারি দায়িত্ব ও আচরণবিধিরও স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তাঁরা। এ কারণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।