রোববার (২৩ আগস্ট) আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে অন্যের বাড়ি দখল ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গত ২১ জুলাই ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু তা অমান্য করায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান বাবু রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আক্কেলপুরের রায়কালী গ্রামের প্রায় চার শতাংশ জমির ওপর রায়কালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের দোতলা পাকা বাড়ি রয়েছে। কয়েক বছর আগে বাড়িটি অগ্রণী ব্যাংকের জিয়ানগর শাখায় বন্ধক রেখে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী বাড়িটি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এই সুযোগে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান বাড়িটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে বাড়ি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জমিটি তার দাদার পৈতৃক সম্পত্তি, যা আগে বেলাল হোসেন দখল করেছিলেন। তিনি কেবল পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছেন।
তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের খবর পাওয়ার পর তিনি ওই বাড়ির আসবাবপত্রসহ সব মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলেও থানায় বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত বৈঠকে তিনি উপস্থিত হননি।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ (রানা) বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যের বাড়ি দখলের মতো অন্যায়ের সঙ্গে দল কোনো আপস করবে না বলেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর