ক্ষুধা নিরসনে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) বা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের স্কোরের উন্নতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। অথচ ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোরের উন্নতি হয়েছিল ৪২ শতাংশের বেশি। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে সর্বশেষ মূল্যায়নে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। সাধারণত উচ্চতার তুলনায় কম ওজন শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অন্যতম লক্ষণ। এ ধরনের অপুষ্টি শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তবে ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় অন্যান্য কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি রয়েছে। শিশুদের খর্বাকৃতির হার ২০১৮ সালের ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে সর্বশেষ মূল্যায়নে ২৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার অনুপাত ১২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে ক্ষুধা নিরসনে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতিকে ‘এক প্রজন্মের অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০০ সালে দেশে শিশুদের খর্বাকৃতির হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সর্বশেষ মূল্যায়নে তা কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, দুই দশকের বেশি সময়ে এ হার ৩০ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি কমেছে।
জিএইচআইয়ের গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের খর্বাকৃতির হার কমার পেছনে অভিভাবকদের শিক্ষার উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মায়েদের শিক্ষায় অগ্রগতি এবং পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও জনমিতিক পরিস্থিতির উন্নতিও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫ এবং আফগানিস্তানের ২৮ দশমিক ৬। দেশ তিনটি ‘গুরুতর’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের স্কোর ১৪ দশমিক ৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০ দশমিক ২। দেশ দুটি ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে।
জিএইচআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫, যা অঞ্চলটিকে ‘গুরুতর’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রেখেছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্কোর ১৮ দশমিক ১, যা ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধার নির্দেশক।
জিএইচআই চারটি সূচকের ভিত্তিতে ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করে। এগুলো হলো—অপুষ্টি, শিশুদের তীব্র অপুষ্টি, খর্বাকৃতি ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার। স্কোর যত কম, ক্ষুধার তীব্রতা তত কম।
সূত্র: ইত্তেফাক