ধোঁয়ায় ভরা বাথরুমে শেষবারের মতো একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলেন সেই দম্পতি

Share

ভেতর থেকে বন্ধ বাথরুমের দরজা। বাইরে ধোঁয়ার দাপট, ভেতরে নিস্তব্ধতা। দরজা ভেঙে ঢুকে উদ্ধারকারীরা যা দেখলেন, তা তাদের বুক ভেঙে দিল — একজন টয়লেট সিটে বসা, পাশের চেয়ারে বসা সঙ্গী তাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছেন। আগুন নয়, ধোঁয়াই কেড়ে নিয়েছে তাদের জীবন।

ভারতের দিল্লির মালবীয় নগরের ‘ফ্লারিশ স্টে বিএনবি’ হোটেলে৩ বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন।

উদ্ধারকারী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, নিচতলার বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে তারা দেখেন, দম্পতি দুজন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বসে আছেন — যেন শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে ছাড়েননি। শরীর দুটো কালচে হয়ে গিয়েছিল। সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু আর কিছুই করার ছিল না।

একই ভবনের আরেকটি কক্ষে বিছানার কিনারায় বসা অবস্থায় আরেক দম্পতির দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রিসেপশনের কাছে এক তরুণীর সম্পূর্ণ দগ্ধ দেহ এবং হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তির পোড়া মরদেহও পাওয়া যায়।

ভবনের বাইরে তখন চলছিল আরেক মরিয়া লড়াই। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজউদ্দিন মানসুরি ও তার ছেলে আরমান নিজেদের প্রায় দুই লাখ রুপির ম্যাট্রেস ভবনের নিচে বিছিয়ে দেন, যাতে জানালা থেকে লাফিয়ে পড়লে আঘাত কম লাগে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছাদে এক বিদেশি নাগরিক খুঁটি আঁকড়ে নামার পথ খুঁজছেন — আতঙ্কিত, অসহায়।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে বেজমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৭টি ফায়ার টেন্ডার কাজ করে।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে — ভবনটিতে ছিল মাত্র একটি প্রবেশ ও নির্গমন পথ, অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না এবং মাত্র ছয় কক্ষের অনুমোদন নিয়ে চলছিল ২৫টি কক্ষ। জানালাগুলোও ছিল সিল করা — আটকে পড়া মানুষের পালানোর পথ কার্যত বন্ধ। হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ভয়ে তিনি জ্বলন্ত ভবনের সামনে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান।