মরিশাসের কাছ থেকে ভারত মহাসাগরের বিতর্কিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যের কর্তৃত্ব এড়িয়ে কীভাবে সরাসরি মরিশাস সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন সেই পথ খুঁজছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ভারত মহাসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এটি।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাস বেদনাদায়ক। ১৯৬৫ সালে মরিশাস যখন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল, তখন মাত্র ৩০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে দ্বীপগুলো কিনে নেয় যুক্তরাজ্য। মরিশাস পরে দাবি করে, প্রচণ্ড চাপের মুখে এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল তারা। এরপর ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি তৈরির পথ সুগম করতে দ্বীপের হাজার বছর ধরে বসবাসকারী চাগোসিয়ান জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। জাহাজে তুলে তাদের মরিশাস ও সেশেলসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যথাযথ বাসস্থান বা নাগরিক নথিপত্র ছাড়াই।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্য দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়। চুক্তি অনুযায়ী দিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটি আগামী ৯৯ বছর পরিচালনার অধিকার পাবে যুক্তরাজ্য এবং বিনিময়ে মরিশাসকে মোট প্রায় ৩৪০ কোটি পাউন্ড দেওয়া হবে। চাগোসিয়ানদের জন্য আলাদা ট্রাস্ট ফান্ডে ৪ কোটি পাউন্ড রাখার বিধানও ছিল। তবে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার পর গত এপ্রিলে পুরো পরিকল্পনাটি স্থগিত করে দেয় যুক্তরাজ্য।
এখন যুক্তরাজ্যকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে চুক্তি করে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিজেদের হাতে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন।