ছবিঃ এবিসি নিউজ

বোমা দিয়ে কূটনীতি: ইরানে নতুন হামলা, কিন্তু ট্রাম্পের কৌশল কি কাজ করছে?

Share

ইরান চুক্তি করছে না, আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে — এই অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ‘তারা আমাদের বোকা বানাচ্ছে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘বোমার মাধ্যমে আলোচনা করতে হলে বোমার মাধ্যমেই করব।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। এর কয়েকটি দক্ষিণ ইরানে — দৃশ্যত হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু এই হামলার সময়টি উল্লেখযোগ্য। ঠিক যখন কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার ব্যবধান কমাতে তেহরান সফরে গিয়েছিল, তখনই নতুন হামলা হলো। এর আগেও অন্তত দুবার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে হুট করে সামরিক পথ নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

গত তিন মাসের অভিজ্ঞতা বলছে, ওয়াশিংটন যখনই সামরিক চাপ বাড়িয়েছে, তেহরান আরও দৃঢ়সংকল্পী হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি স্পষ্ট বলেছেন, হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থান। গত সপ্তাহেই তিনি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন যে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান ইরান চুক্তি নষ্ট করতে পারে। অথচ এখন নিজেই পূর্ণ সামরিক শক্তি নিয়ে ইরানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য জিম হাইমস সতর্ক করেছেন, ইরান চাইলে হুতিদের দিয়ে লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি রুট বন্ধ করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস করতে পারে। এর ফলে তেলের দাম যে লাফিয়ে বাড়বে, তা ইতিমধ্যেই কমে যাওয়া ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকে আরও আঘাত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বারবার একই ব্যর্থ কৌশলে ফিরে যাওয়া ট্রাম্পকে এক দুষ্টচক্রে আটকে ফেলছে। আরও তীব্র হামলা চালালে ইরানের পাল্টা জবাব বাড়বে; না চালালে হরমুজে তেহরানের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। হরমুজ প্রণালি, পরমাণু কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা — এই তিনটি বড় ইস্যুর সমাধান ছাড়া কোনো টেকসই চুক্তিও সম্ভব নয়। ফলে সংঘাতের কোনো দ্রুত সমাধান এখনো দিগন্তে দেখা যাচ্ছে না।

  • সিএনএন থেকে অনূদিত