ছবিঃ সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তে ফের সংঘাত, আতঙ্কে টেকনাফবাসী

Share

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ফের যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে কমপক্ষে চার দফা শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সীমান্ত এলাকা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল-বিকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু ও বুথিডং টাউনশিপে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে দেশটির সামরিক জান্তা ফের যুদ্ধবিমান থেকে ধারাবাহিক হামলা চালায়। এতে টেকনাফের জাদিমোড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা বারবার প্রকম্পিত হয়।

দুই দিনে ৩০টি হামলা

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দুই দিনে মংডু ও বুথিডংয়ে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের পাশাপাশি বহু বসতঘর ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে থাকা মংডুর বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বৃহস্পতিবার সকালেও মংডুতে গোলার বিকট শব্দ শোনা গেছে। তার ভাষ্যমতে, এসব হামলায় দুইজন রোহিঙ্গা হতাহত হয়েছেন এবং ২০ থেকে ৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মংডুতে এখনও অবস্থানরত হাজারো রোহিঙ্গা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের দাবি অনুযায়ী, বুধবার বুথিডংয়ের কিয়েত মাউক তাউং মুসলিম গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে বোমা নিক্ষেপ করে।

সীমান্তবাসীর অভিজ্ঞতা

শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, হঠাৎ এমন ঝাঁকুনি অনুভব করেন যে মনে হয়েছিল পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদের ওপারে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়দের ধারণা, এটি আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।

প্রশাসন ও বিজিবির অবস্থান

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রাখাইনে সংঘাতের প্রভাব সবসময় বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ে এবং এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ চেষ্টাও বাড়ে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

টেকনাফের ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সীমান্তবাসীদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন উদ্বেগ

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবাইর বলেন, দীর্ঘদিন পর রাখাইনে সংঘাত ফের তীব্র হওয়ায় প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১১ মাস যুদ্ধের পর রাখাইনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি, যার বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সেসব অবস্থানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী, পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে।