ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়াল ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে

Share

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

হেগসেথ জানান, আগের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এই নতুন হিসাবে ইতিমধ্যে পরিচালিত সামরিক অভিযানের খরচের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ও যুক্ত করা হয়েছে, যদিও পেন্টাগন এই অঙ্কের বিস্তারিত হিসাব-পদ্ধতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

শুনানিতে হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পেলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করতে হতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

আগামী ছয় মাস পর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবকে সামনে এনে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই এখন প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং জর্ডানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর নিখোঁজ আরও একজন সেনার সন্ধান চলছে। এ ছাড়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে জুলাইয়ের শুরু থেকে আহত হওয়া ১০০ জনের ৯৬ শতাংশই ইতিমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি জানান, এই পার্বত্য স্থাপনায় শিগগিরই হামলা চালানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আরও বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশটির অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।