সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নজরদারির অভিযোগে রাশাদ সুলতানভ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হয়ে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও আজারবাইজানের দ্বৈত নাগরিক সুলতানভকে গত ১৭ জুলাই সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ আটক করে, বর্তমানে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে আদালতে হাজির হয়ে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন এলাকার বাসিন্দা সুলতানভকে গত বছরের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আকরোটিরি ঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাসদমন বিভাগ হেফাজতে নেয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলকে সহায়তা এবং ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সূচনালগ্নে এই ঘাঁটিতেই ইরানের তৈরি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত এই ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন নজরদারি চালিয়ে সংগৃহীত তথ্য সুলতানভ বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিদেশি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে এটিই প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারের আগে তিনি দূরপাল্লার লেন্সযুক্ত ক্যামেরা ও মুঠোফোন দিয়ে ঘাঁটির ছবি ধারণ করেন এবং বিস্তারিত তথ্য নোট আকারে লিপিবদ্ধ করেন বলে অভিযোগ। এরপর ছবিগুলো এনক্রিপ্ট করে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন একজনের কাছে পাঠানো হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাইপ্রাস পুলিশ প্রথমবার সুলতানভকে গ্রেপ্তার করে নিকোসিয়ার একটি কারাগারে রাখে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করার পর স্থানীয় অভিযোগের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। লন্ডনের সন্ত্রাসদমন পুলিশ বিভাগের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান জানান, সিপিএস, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ও সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল