মেসির সঙ্গে ‘প্রতারণা করেছে আর্জেন্টিনা’

Share

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল মেসির নাম ধরে গান। কিন্তু মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ৩৯ বছরের এই মানুষটির চোখে ছিল শুধু অশ্রু আর বিধ্বস্ততা। হয়তো তখন তার মনে হচ্ছিল, এমন ভালোবাসা পাওয়ার এটাই শেষ মুহূর্ত।

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে এর চেয়েও কঠিন কথা — ১২০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনা একটিও লক্ষ্যমুখী শট নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটিই প্রথম। স্পেনের লক্ষ্যমুখী শট ছিল ১২টি। হতবাক করা প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে যত পাস দিয়েছে তার চেয়ে বেশি ফাউল করেছে — পাস আটটি, ফাউল নয়টি।

শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার মারমুখী ও আক্রমণাত্মক মনোভাব মেসির খেলায় কোনো সাহায্য তো করেইনি, বরং দলনেতাকে ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। ম্যাচের ১১৭তম মিনিটে তীব্র হতাশার মধ্যে মেসির নেওয়া একমাত্র শটটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

নির্ধারিত সময় শেষের ঠিক আগে বিনা কারণে পাউ কুবার্সির ওপর চড়াও হয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ — যা আর্জেন্টিনার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে দেয়। বদলি হিসেবে নামা লেয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায়ও জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অশোভন হাতাহাতিতে পরিণত হয় দৃশ্যপট।

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সম্মেলন ছেড়ে চলে যান।

এই বিশ্বকাপে বিশ্বমঞ্চে মেসির ৩৪তম ম্যাচ ছিল এটি। পরের বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবু ইতিহাস তাকে মনে রাখবে — ফুটবল পিচে পা রাখা সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে। শুধু এই একটি রাতের পরাজয় সেই মহিমাকে ম্লান করতে পারবে না।