দুনিয়াতে আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। আর এই ভালো থাকার জন্য সবকিছুই নিজের ইচ্ছেমতো করতে চাই, ইচ্ছেমতো পেতে চাই, এমনকি সবকিছুই ইচ্ছেমতো হওয়াটাকেও জরুরি মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সবকিছু ইচ্ছেমতো হওয়া জরুরি?
আসলে, সবকিছু ইচ্ছেমতো হওয়াটা জরুরি নয়, আর সবকিছু ইচ্ছেমতো হওয়াও সম্ভব নয়। ভালো থাকার জন্য কিছু বিষয় ছেড়ে দিতে হয়, কিছু বিষয় মেনে নিতে হয়, আর কিছু বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হয়। নিজের প্রয়োজনকে সীমিত করতে হয়, মানুষের প্রতি প্রত্যাশা কমাতে হয়।
সবাই আপনাকে বুঝবে-এমনটা আশা করা ঠিক নয়। সবাই আপনার ভালো চাইবে-এমন প্রত্যাশাও বাস্তবসম্মত নয়। কেউ ভুল বুঝলে প্রতিটি ভুলের ব্যাখ্যা দিতে হবে-এমনটাও যুক্তিসঙ্গত নয়।
সব মানুষকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়, সব সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব নয়, সব চাওয়া পূরণ হওয়াও সম্ভব নয়। কিছু মানুষকে ছেড়ে দিতে হয়, কিছু সম্পর্ককে সময়ের হাতে তুলে দিতে হয়, কিছু কথা ভুলে যেতে হয়, কিছু মানুষের কথাকে পাত্তা দিতে হয় না, আর কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা না করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
তাই অন্যের কথায় নিজের শান্তিটুকু নষ্ট না করে, কারও ক্ষতি না করে, নিজের দায়িত্বটুকু যথাসাধ্য পালন করতে হয়, নিজের সাধ্যের মধ্যে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হয়, নিয়মিত আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপরই ভরসা রাখতে হয়।
জীবনে কম প্রত্যাশা, কম অভিযোগ, বেশি শুকরিয়া, অধিক ধৈর্য; মানুষের ওপর কম নির্ভরশীলতা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা এবং সর্বোপরি আল্লাহর ওপর অটুট বিশ্বাস-এসব হয়তো জীবনের সবকিছু বদলে দেবে না, কিন্তু জীবনকে অনেকটা সহজ ও সরল করে তুলতে পারে। অথচ চাওয়া-পাওয়ার গণ্ডিটা বড় করে আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবনকে জটিল করে তুলি।
লিখেছেন:
মজনু সরকার
২৪/০৯/২০২৬
ক্ষণিকালয়, ঢাকা