আজ সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একদিকে দেশীয় শিল্প, স্বাস্থ্য ও সৃজনশীল খাতে ব্যাপক করছাড় দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে করজাল বাড়াতে সাধারণ করদাতা ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপরও নতুন করের বোঝা নামছে।
সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে আসছে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। তবে শিক্ষার্থী, ১০ টাকার হিসাবধারী ও সরকারি ভাতাভোগীদের ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। দেশের প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি হাজার টাকায় ২ টাকা হারে অগ্রিম কর কাটার প্রস্তাবও রয়েছে। ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আগের ঘোষণা অনুযায়ী পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। ব্যাংকে রাখা আমানতে আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে বেড়ে ৪ লাখ টাকা হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের ওপর কর কমছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, মাছসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ১-৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। হার্টের রিংয়ে ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারে প্রতিটিতে ২০ হাজার টাকা কমতে পারে। চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারে প্রতিটিতে ৫ হাজার টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার থেকে ভ্যাট ও অগ্রিম কর তুলে দেওয়ায় প্রতি সেশনে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
সৃজনশীল খাতে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার হচ্ছে। সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক ১৫ থেকে কমে ৫ শতাংশ হবে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণাও থাকছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির শুল্ক-কর বর্তমান ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়িতে ৬৪ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব শুল্ক-কর প্রত্যাহারও আসছে। সোনার গয়নায় বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাটের বদলে ভরিপ্রতি ২৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ ব্যবসাবান্ধব ছাড়গুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাড়তি রাজস্ব আদায়ে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না দিয়ে করজাল বাড়ানোর শক্ত উদ্যোগ নিতে হবে।