জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি প্রতিরোধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “এই বাজেটের মাধ্যমে আমরা যে মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন হবে না। রাজনৈতিক সংস্কারের পর অর্থনৈতিক সংস্কার আসবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সামগ্রিকভাবে বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে আশঙ্কা করছি।”
বাজেটে কিছু পণ্যে কর কমানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, এগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এত অল্প সময়ে বিদ্যুতের এ ধরনের বড় মূল্যবৃদ্ধি নজিরবিহীন।”
নাহিদ ইসলাম জানান, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, তার কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারদলীয় এমপিরা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন, যেখানে বিরোধীদলীয় এমপিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কোথাও জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতা নেই।”
ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বাজেটে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বড় অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথাও তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।” তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, তাদের দল শুধু সমালোচনা নয়, বিকল্প প্রস্তাবও দিচ্ছে এবং ছায়া বাজেট সেই উদ্যোগের অংশ।