নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার -কে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের অভিযানে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে। পুলিশ সূত্র জানায়, সোনা পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। ওই সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামানো হলে তাতেই ছিলেন ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রথমে পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয় বিশ্বাস না করে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে তাকে মারধর করা হয়। এমনকি স্থানীয় লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি।
নাঈম হাসান অভিযোগ করেন,
“আমাকে গলা টিপে ধরে গাড়িতে তুলেছে। পরে লাঠি দিয়ে মারধর করেছে। আমি আইডি কার্ড দেখানোর পরও তারা থামেনি।”
পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায় বলে জানান তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসির কাছে ফোন আসার পর তার আচরণ পরিবর্তন হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দাবি করেন,
তিনি এ অভিযানের বিষয়ে আগে জানতেন না এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই নাঈমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, নাঈমের বাবা মাহবুব আলম অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পরও তার ছেলেকে অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
এ ঘটনায় নাঈমের ভাই মামলা করেছেন। মামলায় এক এসআই, এক কনস্টেবল ও একজন সোর্সকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার কথা উল্লেখ রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।