ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ৬ আর মরক্কো ৭—প্রায় সমান শক্তির দুই দল। তবে মাঠে ব্রাজিলকেই ফেবারিট ধরা হয়েছিল। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মরক্কো বুঝিয়ে দিল র্যাঙ্কিং আর হাইপ—দুটোই মিথ্যা নয়। শেষমেশ ১-১ গোলে ড্র হলেও ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের খেলা ছিল অস্থির ও ছন্দহীন। কাসেমিরো ও পাকেতা একের পর এক ভুল করেছেন। ইবানিয়েজ ছিলেন পুরোপুরি দিশাহারা, মরক্কোর আক্রমণ যেন বুঝতেই পারছিলেন না। রাফিনিয়াও ছিলেন নিষ্প্রভ। একমাত্র আলোর রেখা ভিনিসিয়ুস, যাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই সমতা ফিরে আসে। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের দশম গোলে তিনি বাঁ প্রান্ত থেকে শরীরের ভঙ্গিতে ডিফেন্ডারকে বিভ্রান্ত করে ডান পায়ের শটে জাল কাঁপান। মিডফিল্ডে গিমারেসও মোটামুটি সচল ছিলেন।

বিরতির পর ইবানিয়েজ, কাসেমিরো, পাকেতা ও ইগর থিয়াগোকে তুলে ফাবিনিও, দানিলো, কুনিয়া ও লুইস এনরিকেকে নামান আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেকটা গুছিয়ে খেললেও কাঙ্ক্ষিত গোল আর আসেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কোর এল আয়নাউয়ির দূরপাল্লার শট আলিসন ঠেকাতে না পারলে পয়েন্টই পেত না ব্রাজিল। কৌশলগতভাবেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি আনচেলত্তি।
সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা। সেরা শুরুর একাদশ এখনো খুঁজে পাননি আনচেলত্তি। তবে সামনে তুলনামূলক সহজ দুটি ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে। নকআউট পর্বের আগেই সমন্বয় ও ছন্দ ফিরে পাওয়া এখন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।