রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংঘাতের জেরে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মপাড়া এলাকার নুরজাহান বেগম (৫৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলে রিফাত হোসেন তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আগে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অক্সিজেন না দেওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ রিফাত দায়িত্বরত সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাকিবুল হাসান, ইন্টার্ন চিকিৎসক নাঈম ও রাকিবের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ডেড হাউজের সামনে অবস্থান নিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত লাশ না দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন।
মরদেহ না পেয়ে স্বজনরা বেলা দেড়টার দিকে মেডিক্যাল মোড় এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অ্যাম্বুলেন্সে লাশ তোলার পরও তা নামিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে লাশ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও চিকিৎসকরা তা মানেননি।
রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিরাজ বলেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছে তাকে এসে ক্ষমা চাইতে হবে, এরপরই লাশ দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছিলেন। বিকেলে রিফাত হাসপাতালে এসে পরিচালকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে কান ধরে ১০ বার ওঠবস করে ক্ষমা চাওয়ার পর মায়ের মরদেহ ফেরত পান।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দায়িত্বরত চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়নি এবং কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। তবে ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে লাশ ফেরত দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন।