সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর: বিপুল দুর্নীতি, জমি দখল, ভুয়া পিএইচডিসহ অভিযোগের আমলনামা

Share

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ—দুর্নীতি, অর্থ পাচার, জমি দখল, পাসপোর্ট জালিয়াতি, ভুয়া পিএইচডি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ পর্যন্ত।

গোপালগঞ্জের এই পুলিশ কর্মকর্তা ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেন। ডিএমপি কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হওয়ার পর ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন। ক্ষমতার শীর্ষে থাকার সময় অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ার খবর উঠলে তদন্ত শুরুর আগেই ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়েন তিনি।

দুদকের মামলায় বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জব্দ করা হয়েছে। আলাদা মামলায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

নিজের এলাকা গোপালগঞ্জে ৬০০ বিঘার বেশি জমিতে গড়ে তুলেছিলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভয় দেখিয়ে ও জোর করে জমি কিনে নেওয়া হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে রিসোর্টটি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে যায়।

র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পাসপোর্ট নবায়ন করেন বেনজীর, যা পাসপোর্ট আইনে অপরাধ। এ ছাড়া ভর্তির যোগ্যতা না থাকলেও শর্ত শিথিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন, যা পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থগিত করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায়ও তিনি আসামি। শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের সময় ডিএমপি কমিশনার এবং র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় র‍্যাবপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায়ও পড়েছিলেন বেনজীর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।