তিনতন্ত্র ডিজিটাল রিপোর্ট | প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬
সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরপরই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। এ সময় তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
রোববার (১৪ জুন) তার আটকের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করার পর দুদক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটির বিচার কার্যক্রম চলমান।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। একই প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১২ জুন দুবাই থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের আটকের তথ্য পায় বাংলাদেশ পুলিশ। এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএই ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।
এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করে তা এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠাবে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
দুদক জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭৬ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে এনসিবি ঢাকা আন্তর্জাতিক সমন্বয়, রেড নোটিশ সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী অনুসরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। দুদক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্তসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করেছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।