আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) রিটার্ন জমার সময়সীমা প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নতুন বিধানে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের মোট আয়ের প্রায় সাড়ে ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা আসবে ভ্যাট থেকে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রিটার্ন জমার সময় তিন মাস হলে ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করা ভ্যাটের অর্থ ব্যবসায়ীদের কাছে দীর্ঘদিন জমে থাকবে, যা খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। একই সঙ্গে সরকারের তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের সংকট তৈরি হতে পারে এবং ঘাটতি মেটাতে চড়া সুদে ব্যাংকঋণ নিতে হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য ড. আব্দুর রউফ বলেন, তিন মাস ভ্যাটের অর্থ ব্যবসায়ীর কাছে থাকলে আর্থিক ঝুঁকির পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কাও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পদ্ধতিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের অর্থ চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন, আর যারা স্বচ্ছভাবে হিসাব রাখেন তাদের জন্য তৈরি হবে বাড়তি জটিলতা। রেয়াত দাবি ও ইনভয়েস ট্র্যাকিংও এতে কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া মাসিক রিটার্নে কোনো ভুল হলে তা পরের মাসেই সংশোধন করা সহজ হলেও ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে একটি ভুলের প্রভাব পড়বে দীর্ঘ তিন মাসের লেনদেনে।
এনবিআরের মাঠপর্যায়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, নতুন এই নিয়মকে সহজীকরণ বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে কোষাগারে অর্থ জমার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে। তিন মাসের তথ্য একসঙ্গে জমা পড়লে স্ক্রুটিনি বা অডিট পরিচালনাও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।