চট্টগ্রামে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পরও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের শেষ মুহূর্তের প্রতিরোধ সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য টপকাতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানে জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
টসে জিতে আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশ থামে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান প্রথম দুই ওভারেই তোলেন ৩৩ রান। ১৫ বলে ৩০ রান করে তানজিদ আউট হলেও সৌম্য সরকারের ৯ বলে ১৫ রানে রানের গতি কমেনি। তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান (৪২) ও পারভেজ হোসেন ইমনের (৩৬) জুটি আশা জাগালেও দুজনই অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শামীম পাটোয়ারীও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত হাল ধরার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয়। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৩ রান, অ্যারন হার্ডির ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চারে সমীকরণ কমিয়ে আনলেও শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে থামেন হৃদয়, আর সেখানেই থেমে যায় বাংলাদেশের লড়াই।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান ম্যাট রেনশর, যিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ৫২ বলে। টিম ডেভিড করেন ২৬ বলে ৪৫ রান, মিচেল মার্শের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।
শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। নাসুম আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন জশ ইংলিস, নাহিদ রানার শিকার হন কুপার কনোলি, আর মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান অধিনায়ক মিচেল মার্শকে। তবে রেনশ ও ডেভিডের পাল্টা আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা। বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন, এ ছাড়া নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন একটি করে উইকেট নেন।
প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটের জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।