বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক । ছবি: সংগৃহীত

‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মামুনুল হক

Share

নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

পোস্টে মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ওই কক্ষে অবস্থানকালে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী, সাংবাদিক ও অন্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে ও স্ত্রীকে হেনস্তা করেন।

জান্নাত আরার সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২১ সালের ওই ঘটনার পর সৃষ্ট নানা মনোমালিন্যের জের ধরে ২০২৫ সালের মার্চে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁর দাবি, বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসকালেও জান্নাত আরার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, তিনি আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। পারস্পরিক সম্মতিতে সেই বিয়ে বিচ্ছেদের পর জান্নাত আরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে তিনি তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন মামুনুল হক। তাঁর ভাষ্যমতে, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার ইসলামি বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি পালন করতে না পারার বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করার পর জান্নাত আরার সম্মতিতে শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ে গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, উপমহাদেশে একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে জটিল বিষয় হওয়ায় প্রথম পরিবারে অস্থিরতা এড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার কারণেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তাঁর দাবি, ইসলামে কাবিন বাধ্যতামূলক নয় এবং তাঁর প্রথম বিয়েতেও কাবিন হয়নি, তবে একাধিক বিয়ের বিষয়টি ঘনিষ্ঠজনেরা জানতেন।