ছবি: সংগৃহীত

সংসদে সংযম, রাজপথে চাপ — চার ক্ষেত্রে একসঙ্গে লড়ছে জামায়াত

Share

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটির রাজনীতি শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংসদে সমালোচনা, রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন সম্প্রসারণ এবং আদালতে আইনি লড়াই — এই চার ক্ষেত্রকে একসঙ্গে সামনে রেখে এগোচ্ছে দলটি।

সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন পর্যন্ত জামায়াত আইনশৃঙ্খলা, বাজেট, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে এবং চারবার ওয়াকআউট করেছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও সংসদে জোরালোভাবে তুলছেন দলের সদস্যরা। তবে দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বীকার করেন, ৬৮ জন সদস্যের মধ্যে ৬৪ জনই প্রথমবার সংসদে গেছেন। ফলে কিছু ক্ষেত্রে বক্তব্য ও শব্দচয়নে ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে দলীয়ভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

রাজপথেও সক্রিয় থাকছে জামায়াত। সংসদ নির্বাচনের পর গত চার মাসে রাজধানীতে অন্তত ৯ দিন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৬ মে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া বিভাগীয় সমাবেশ সিরিজ আগামী ২৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। এরপর অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরেই জামায়াতের বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করছেন রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তৃণমূল পর্যায়ে ভিত শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম দাবি করেন, আগে দলের সমর্থক ছিল ৫০ লাখ, এখন তা বেড়ে আড়াই কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

আদালতেও নজর রাখছে জামায়াত। কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতে গেছেন দলের কিছু প্রার্থী, যদিও শুনানি এখনো শুরু হয়নি।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্টদের মতে, সংসদে সংযত এবং মাঠে সক্রিয় — এই দুই ধারার সমন্বয় কতটা সফল হয়, সেটিই এখন জামায়াতের বড় পরীক্ষা।