প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরে আজ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন তিনি। এই সফরে চুক্তি, সমঝোতা স্মারকসহ ১৫ থেকে ১৭টি দলিল সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই সফরকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের সফরগুলোয় আর্থিক সহায়তা ও প্রকল্পে অর্থায়নে জোর থাকলেও এবার বিনিয়োগ সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সইয়ের জন্য প্রস্তুত দলিলের তালিকায় রয়েছে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের রূপরেখা ও চীনা ভাষায় শিক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। সমঝোতা স্মারকের তালিকায় আছে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সহযোগিতা, চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) বাস্তবায়ন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি শিক্ষা এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারের সহযোগিতা।
আজ বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ চীনা ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। এরপর চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ ও চায়নাট্যাক্স করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলাদাভাবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান, সিডকা চেয়ারম্যান ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
আলোচনায় বহুল আলোচিত তিস্তা বৃহদায়তন প্রকল্প এবং জিডিআইয়ে বাংলাদেশের যুক্ততার বিষয় আসবে। আগামীকাল শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়ার পর এক দশক পর জিডিআইয়ে বাংলাদেশের যুক্ততা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বড় পরিসরে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা যায়।