ছবি: সংগৃহীত

প্রধান শিক্ষিকা চাঁদা চান, নিয়ে যান স্কুলের সম্পদ; তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

Share

 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিদ্যালয়ের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া, শিক্ষকদের হয়রানিসহ ১১টি অভিযোগ তুলেছেন একই বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষিকা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার ও সিনথিয়া আফরিন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি ও পানির ট্যাংক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার ফি ও পঞ্চম শ্রেণির সনদপত্র দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, জাতীয় দিবসের বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার না করা, টিফিন কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম ও নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ উপলক্ষে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুই সহকারী শিক্ষিকার দাবি, তাঁদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের মানহানিকর।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন। তাঁর দাবি, চুরির আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের পানির ট্যাংক সাময়িকভাবে তাঁর বাসায় রাখা হয়েছে। আর ফ্যান, সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি মেরামতের জন্য কারিগরের কাছে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে তদন্ত করছেন ইউপিইটিসি ইনস্ট্রাক্টর শাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন।