শেষ ষোলোর মঞ্চে গতকাল রাতে মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এই জয়ের ব্যতিক্রমী মাত্রা বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট—বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকে এই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতল আর্জেন্টিনা।
তবে বিশ্বকাপে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার গল্প আর্জেন্টিনার জন্য নতুন নয়। শুরুতে গোল হজম করেও ম্যাচ জিতে নেওয়ার এমন কীর্তি এর আগে চারবার গড়েছে দলটি। চলুন ফিরে দেখা যাক সেসব স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প।
সুইডেন, ১৯৫৮: প্রথম প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার পিছিয়ে পড়েও জয়ের নজির গড়ে আর্জেন্টিনা ১৯৫৮ সালের সুইডেন আসরে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেও নিজেদের খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে দলটি। ওমর করবাতার পেনাল্টি থেকে করা গোল এবং নরবার্তো মেন্দেজ ও লুদোভিকো আভিওর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে শেষমেশ ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা, ১৯৭৮: প্রথম শিরোপার পথে বাধা টপকানো
১৯৭৮ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির বিপক্ষে খেলায় শুরুতেই গোল হজম করে সিজার লুইস মেনোত্তির দল। তবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলার সুবাদে দ্রুতই ছন্দে ফেরে স্বাগতিকেরা। লিওপোল্ডো জাসিন্টো লুকু ও ড্যানিয়েল বার্তোনির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দলটি—আর সেই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৯৪: ম্যারাডোনা-ক্যানিজিয়ার জাদু
১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলায় নেমে শুরুতেই চমকে ওঠে আর্জেন্টিনা—প্রথমেই গোল খেয়ে বসে তারা। কিন্তু দ্রুতই ম্যাচে ফেরে দলটি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার পায়ের কারুকাজ আর ক্লদিও ক্যানিজিয়ার বিদ্যুৎগতির সঙ্গে জোড়া গোলে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র, শেষমেশ ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
জার্মানি, ২০০৬: রদ্রিগেজের স্বপ্নের ভলি
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়ে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে হার্নান ক্রেসপোর দ্রুত গোলে সমতা ফেরে ম্যাচে, এরপর গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের স্মরণীয় এক ভলিতে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পায় দলটি।
২০২৬ বিশ্বকাপ: সবচেয়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
চলতি বিশ্বকাপে অবশ্য সবচেয়ে নাটকীয় লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ১৫ ও ৬৭ মিনিটে গোল হজম করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা—নকআউট পর্বে এমন ব্যবধান পেরোনো তখন প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল।
তবে ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমিয়ে আনে আর্জেন্টিনা, আর মাত্র চার মিনিট পর ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে দলটি। শেষ পর্যন্ত ৯২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত হেডে আসে জয়সূচক গোল। ৩-২ গোলের এই অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।