যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি জানান, প্রতিশোধ গ্রহণ তাদের জাতির দাবি এবং তা বাস্তবায়িত হবেই। প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করে তিনি শপথবাক্যে বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছ থেকে দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের হিসাব নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে একেবারে নিচু স্তর পর্যন্ত সব নথিভুক্ত রয়েছে তাদের কাছে। বার্ধক্যে শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর যে প্রত্যাশা তারা পোষণ করছে, তা পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, এই প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং যেকোনো পরিস্থিতিতেই তা কার্যকর হবে অচিরেই।
এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান তাঁকে হত্যার চেষ্টা করলে দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের কিছু সময়ের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই বার্তা আসে।
এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছিল, তেহরানের কট্টরপন্থী নেতাদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্রের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন ষড়যন্ত্রের সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, যদিও এমন আলোচনা বা গুঞ্জন থেমে নেই।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাঁর বাবা, মা, সন্তান ও স্ত্রী নিহত হওয়ার সময় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি জনসমক্ষে না এসে কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি নিজের কণ্ঠে কোনো বার্তা দেননি বা জনসমক্ষে মুখও দেখাননি। শনিবারের এই বিবৃতিটি তাঁর প্রকাশিত হাতে গোনা বার্তাগুলোর একটি।