জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ রোববার ভোর সোয়া চারটার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া সেলের এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা পৃথক পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। গভীর দুঃখও প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক শোকবার্তায় জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি নিজের পক্ষ থেকে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ এবং রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শোক
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও পৃথক শোকবার্তায় সমবেদনা জানিয়েছেন। স্পিকারের শোকবার্তায় জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে—তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তিনি।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এ ছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
জামায়াত আমিরের শোক
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, জমির উদ্দিন সরকার একজন দেশবরেণ্য সিনিয়র আইনজীবী এবং পরিচ্ছন্ন, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পিকার হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন তিনি বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে বিভিন্ন সময় আইনি লড়াইয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আদালতে দাঁড়িয়েছেন জমির উদ্দিন সরকার, যা তাঁর নিঃস্বার্থ মানসিকতার পরিচায়ক।
নাহিদ ইসলামের শোকবার্তা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শোক প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা হাতে গোনা আইনজীবীদের একজন ছিলেন তিনি। অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ২০০২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন জমির উদ্দিন সরকার, যা তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান তিনি।