ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮০ বছর বয়সী আয়েশা বেগমকে হত্যার ঘটনায় তাঁর সম্পর্কের নাতি ইমাম হুসাইন তামজিদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি। জবানবন্দিতে তামজিদের দাবি, মাদক সেবনের সময় আয়েশা বেগম বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া তাঁকে যৌন নির্যাতনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আয়েশা বেগম। পরদিন বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর লাশ। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের জন্য টাকার প্রয়োজন ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তামজিদ। এরপর আয়েশা বেগমের ছেলে বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে গত শনিবার রাতে আখাউড়া উপজেলার তন্তর এলাকা থেকে তামজিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তামজিদ জানান, ঘটনার দিন কয়েকজনের সঙ্গে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাঁকে দেখে ফেলেন প্রতিবেশী ও সম্পর্কে দাদি আয়েশা বেগম, আর বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা আয়েশা বেগমকে যৌন নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তামজিদ। এরপর তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন দাস জানান, কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে ইমাম হুসাইন তামজিদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতে পাঠানো হলে রোববার তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।