বাগেরহাট সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া-লক্ষ্মীখালী খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পোল দিয়ে খাল পারাপার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় কয়েক লাখ মানুষ। মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের উল্লেখযোগ্য কাজ না করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকার বিল দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও এলজিইডির দায়িত্বশীল প্রকৌশলীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা হাওলাদার রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে সায়েড়া-লক্ষ্মীখালী ব্রিজের কাজ চললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। অথচ কাজ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।
কাজ না করেও বিল দেয়া প্রকৌশলী এবং বিল গ্রহণকারী ঠিকাদারকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাসিন্দারা বলেন, দ্রুত কাজ শুরু না হলে তারা এলজিইডি কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে বারাকপুর বাজারে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মানববন্ধন এবং এলজিইডি কার্যালয়ে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও ব্রিজ নির্মাণকাজে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, কোনো কাজ না করেই ঠিকাদার ৫০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অথচ আমাদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ আবুল শেখ বলেন, ৫০ লাখ টাকা বিল নেয়ার পরও কেন কাজ ফেলে রাখা হবে? আমাদের দাবি, দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
এলজিইডি বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র আহ্বান ও যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৪ সালের শেষের দিকে পূর্ব সায়েড়া-লক্ষ্মীখালী খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও ব্রিজের দৃশ্যমান তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এলজিইডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকার বিল দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু কাজ করেছে, তার বিপরীতেই বিল দেয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তিনি কাজ করেননি।
তিনি বলেন, এ কারণে গত ২২ জুলাই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কার্যাদেশ বাতিল হবে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
এদিকে এলজিইডি বাগেরহাটের নথিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র: স্টার নিউজ