ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘ঠিকানা উইথ খালেদ মহিউদ্দীন’-এ দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের একটি সাক্ষাৎকারের জের ধরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বাসভবন থেকে পোষা ছাগল চুরির ঘটনাটি। সাক্ষাৎকারটিতে আসিফ নজরুল ছাগল চুরির ঘটনাটিকে “পশুপাশবিক” আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা আউটলুক’-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মন্ত্রিপাড়ায় আসিফ নজরুলের সুরক্ষিত বাসভবন থেকে ছাগল চুরির এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সহযোগীরা। বাংলা আউটলুকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এক রাতে মন্ত্রিপাড়ার ওই বাসভবনের দেয়াল টপকে ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা কেটে খাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
খালেদ মহিউদ্দীনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল তাঁর শিশুকন্যার মানসিক আবেগের কথা তুলে ধরে বলেন, “ছাগল চুরির এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নিয়ে আমি মুখ খুলতে চাইনি। তবে যদি কেউ কোনো প্র্যাঙ্ক বা মজার ছলেও একটি শিশুর পোষা প্রাণী নিয়ে এমন কাজ করে থাকে, তবে তাদের মতো পিশাচ ও অমানুষ আর হতে পারে না।”
তিনি জানান, স্থানান্তরিত হওয়ার পর তাঁর সাড়ে ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যা একা হয়ে পড়ায় তার সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। ছাগলটি হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ও অসুস্থ হয়ে অনাহারে দিন কাটায়। মেয়েকে আর ট্রমাটাইজড না করতে সত্য গোপন রেখে তাকে বলা হয়েছে ছাগলটি হারিয়ে গেছে।
বাংলা আউটলুক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজেও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এ নিয়ে প্রশাসনিক চত্বরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাক্ষাৎকার ও বাংলা আউটলুকের প্রতিবেদন ফাঁশ হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।