প্রতিকূল আবহাওয়া ও অনাবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চালের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে যাচ্ছে। বিশ্বে চাল রপ্তানির শীর্ষ তিন দেশ ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ওপর নির্ভর করে বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ। এর মধ্যে ভারতের অনাবৃষ্টি এবং থাইল্যান্ডের পানির সংকট বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করছে। অন্যদিকে, এশিয়ার অন্যতম ভোক্তা দেশ ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি তো দূরের কথা, উৎপাদন ঘাটতি সামলাতে বিপুল চাল আমদানির চাপ সামলাচ্ছে।
প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় বিশ্বের চালের বাজারে সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। গত আগস্টে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় মূল মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর প্রভাবে দেশটিতে রপ্তানিযোগ্য চালের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি সেদ্ধ, সাদা ও আতপসহ সব ধরনের চালের দর টনপ্রতি বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৩৭৭ ডলারে।
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বিশ্বে চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশই সামলায় ভারত। দেশটি বছরে গড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টন চাল পাঠায় বিশ্ববাজারে, যা থেকে তাদের বার্ষিক আয় হয় প্রায় ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, ভিয়েতনাম বছরে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন চাল রপ্তানি করে আয় করে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। তবে চালের বাজারে এই বড় খেলোয়াড় থাইল্যান্ডেই এখন উদ্বেগ। পানির সংকট ও আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন এল নিনোর কবলে পড়ে আগামী বিপণন বর্ষে দেশটির উৎপাদন ২ শতাংশ বা প্রায় ৪ লাখ টন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ, ইউএসডিএ।
বিশেষ করে দেশটির চাও ফ্রায়া নদীর অববাহিকার প্রধান চার জলাধারে পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় মৌসুমবহির্ভূত ধান চাষ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন থাই চাষিরা।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ হলেও তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২০ থেকে ৪০ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়। ফলে ভারত ও থাইল্যান্ডের রপ্তানি কমে গেলে বা দাম বাড়লে ইন্দোনেশিয়ার মতো আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, ভারতে চালের দাম বাড়া ও থাইল্যান্ডের উৎপাদন কমার খবরের মধ্যেও ভিয়েতনামের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। সেখানে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল বিক্রি হচ্ছে টনপ্রতি ৪৪০ থেকে ৪৪৫ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে যদি এ সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তবে এশিয়াজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সূত্র: স্টার নিউজ