তিনতন্ত্র ডিজিটাল রিপোর্ট: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারত থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তারা বর্তমানে শূন্যরেখার কাছাকাছি খোলা মাঠে অবস্থান করছে।
শুক্রবার ভোরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। তবে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তা প্রতিহত করেন।
বর্তমানে ওই ১২ জন—যাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারটি শিশু রয়েছে—ভারতের সীমানার ভেতরে কাঁটাতারের বাইরে শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি পাটখেতে অবস্থান করছেন। প্রচণ্ড রোদে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। শিশুদের মধ্যে রয়েছে ১০ মাস থেকে চার বছর বয়সী কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা এবং আরেকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নীল চাঁদ জানান, তিনি কৌশলে কিছু শুকনা খাবার—বিস্কুট, কলা, পাউরুটি ও দুধ—দিয়ে আসেন। খাবার পেয়ে তারা দ্রুত খেতে শুরু করেন। বিশেষ করে শিশুরা দুধ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পায়। তিনি বলেন, “নারীরা কাঁদছিলেন, পুরুষরা চুপচাপ বসে ছিলেন। পরিস্থিতি খুবই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কষ্টকর।”
এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে, কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, “পুশ ইন-এর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজিবি জানায়, বিএসএফ দুই দফা সময় দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ও নিশ্চিত করেনি।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় জনগণ ও বিজিবি যৌথভাবে এই অনুপ্রবেশ প্রতিহত করেছে এবং এখনও সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রাতেও ওই ১২ জন একই স্থানে অবস্থান করবেন এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি সীমান্তে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত দুই ধরনের উদ্বেগই তৈরি করেছে।