দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মুখে দেশ ছাড়ার পর অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালে ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের আগে থেকেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে দুদক তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি নীরবে দেশ ত্যাগ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশ ছাড়ার সময় তিনি কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হননি। ধারণা করা হয়, প্রভাব ও পূর্বের অবস্থানের কারণে সহজেই তিনি দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
সর্বশেষ গত ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, দুবাই পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোন মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।