রৌমারী সীমান্তে পুশ-ইন চেষ্টায় উত্তেজনা, শূন্যরেখায় ৯ জন; পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি

Share

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাবপিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

এ সময় খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন।

একই সময়ে ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে আরও তিনজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার অংশ নেন।

দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। ফলে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিরা এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “বিএসএফ ভোরে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।