ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Share

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জোরপূর্বক কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। বাংলাদেশ সরকার ছয় দফায় ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং জাতিসংঘে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়া, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার সহ-উত্থাপক ছিল ১০৫টি দেশ।

তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আইওএম ও আইআরসি’র সহায়তায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪০৯ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর মধ্যে আইওএমের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং আইআরসি’র মাধ্যমে ৬৯৭ জন পুনর্বাসিত হয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিজভূমি রাখাইনে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের ফলে ক্যাম্প এলাকায় অপরাধের হার কমেছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৪ সালে ৪৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা আরও কমে ৬টিতে দাঁড়িয়েছে।