ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে আটকে পড়া সেই দম্পতি ও দুই শিশুর এখন কোথায়?

Share

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়া দুই শিশুসন্তানসহ একটি দম্পতির এখনো খোঁজ পাচ্ছেন না তাঁদের স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি ও পুলিশের সহায়তায় গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বেলাল হোসেন, তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার এবং দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে এই পরিবার গত ৬ জুন বাড়ি থেকে বের হয়ে ৯ জুন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। ১২ জুন তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধায় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় দম্পতি ও তাদের দুই শিশু—৫ মাস বয়সী ফাইমা ও ৪ বছর বয়সী ফাতেমা—অসুস্থ হয়ে পড়লে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর বুধবার বিজিবি-বিএসএফের যৌথ মেডিক্যাল টিম তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং রাতেই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুসহ দম্পতিকে উদ্ধার করা হয়।

বেলালের মামা আব্দুল মতিন জানান, পরিবার নিয়ে কুড়িগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও বিজিবি কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে পরে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা জানান। কিন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও তারা বাড়ি ফেরেননি।

বেলালের মা হাসনা বেগম জানান, ছেলের পরিবারকে নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন এবং কোথায় আছে তা জানেন না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, এই পরিবার সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে দম্পতিকে রৌমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি, পরে পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং রৌমারী থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, একই রাতে সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় আটকে পড়া মোট ৯ জনের মধ্যে দুই যুবক এখনো শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফের পাহারায় অবস্থান করছেন।