বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদী হয়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবার বড় বড় চালান, আর এই পাচারে দিন দিন জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয় জেলেরা। মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার ট্রলারে করে ইয়াবা পাচার করছেন তাঁরা, বৈরী আবহাওয়া ও গভীর সমুদ্রপথকে কাজে লাগিয়ে।
নাফ নদীর এপারে টেকনাফ আর ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর—এই পথ দিয়েই দেশে ঢোকা ইয়াবার চালান টেকনাফ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই রুটে টহল জোরদার করেছে কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত পরিচালনা করছে অভিযান।
গ্রেপ্তার হওয়া জেলেদের ভাষ্য, লোভে পড়ে তাঁরা মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান নিয়ে আসেন, আর এ বিষয়ে এলাকার প্রায় সব জেলেই কমবেশি অবগত।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে প্রায় ৫২ লাখ পিস ইয়াবা, প্রায় এক কেজি ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও পাঁচ কেজি ক্রিস্টাল মেথসহ নানা ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৫০ জনকে।
টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, কিছু অসাধু চক্র টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার উপকূল ও আশপাশের চরাঞ্চল ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা চালায়। সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মারুফ আহমেদ সৌখিন বলেন, সমুদ্রের অনিশ্চিত প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায়ই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হয় তাঁদের।
কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সমুদ্রপথে মাদক পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।