সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দান করে বিতর্কে পড়েছেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, মাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা দান আসে, সেখানে জনগণের তহবিল থেকে এই অনুদান সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন ডিসি সারওয়ার। গত বৃহস্পতিবার মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরির পর গত রোববার তাঁকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রত্যাহারের পরদিন সোমবার সারওয়ার আলম মাজারে গিয়ে দানবাক্স খুলিয়ে টাকা গণনা করান। আটটি ডেক ও দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালংকার ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এসব টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে নতুন হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা ওই তহবিলে যোগ করেন তিনি। সেদিন রাতেই দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে পরদিন সিলেট ছাড়েন।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মাজার বিতর্কের মধ্যে বদলি হওয়া ডিসি যাওয়ার আগে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রীতিমতো পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজিই করলেন।’ সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, এই টাকা অন্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা যেত।
বিষয়টি নিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম বিস্তারিত কথা বলতে রাজি না হলেও জেলা তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা মাজারে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।